নারী-স্বাস্থ্য

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির কারণসমূহ-

  • যাদের আগেই একবার এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি হয়েছে তাদের পুনরায় হবার সম্ভাবনা প্রায় ১০ গুন বেড়ে যায়।
  • জন্ম নিয়ন্ত্রণকারী ইনট্রাউটেরাইন ডিভাইস (IUD) ব্যবহার করার প্রবণতা থাকলে
  • চালমাইডিয়া এবং গোনোরিহা জাতীয় যৌনসংক্রমন রোগ দেখা দিলে
  • এর আগে কোন পেলভিক সার্জারি হয়ে থাকলে ( ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে ডিম্বানু বেরতে না পারলে )
  • কোন কারণে ডিম্বনালীর স্বাভাবিক এনাটমি ও গঠন নষ্ট হলে,যেমন পেলভিক ইনফেকশনের হিস্ট্রি থাকলে একটোপিক হবার চান্স অনেক গুন বেড়ে যায়।
  • জন্মগতভাবে ডিম্বনালীর গঠনগত সমস্যা থাকলে।
  • ইন-ভিট্র ফার্টিলাইজেশন বা টেস্ট টিউব বেবি নেবার ক্ষেত্রে অথবা ডিম্বস্ফুটনের ঔষধ খেলে।
  • গর্ভনিরোধক কপার টিউব ব্যবহার করলেঅথবা আগে গর্ভপাত করালে একটোপিক প্রেগনেন্সি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
  • বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় Ovulation Inducing Drug খেলে।
  • Post Coital কিছু ইষ্ট্রোজেন জাতীয় বড়ি ব্যবহার করলে।
  • যৌন বাহিত রোগ বা STD এর ইতিহাস থাকলে।
  • IVF এর মাধ্যমে বাচ্চা নিতে গেলে।

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বোঝার উপায় কি?

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির লক্ষণ নরমাল প্রেগনেন্সির থেকে খুব আলাদা কিছু হয় না প্রথম দিকে। ডিম্বনালী রাপচার বা ফেটে যাবার আগ পর্যন্ত এই রোগের কোন লক্ষণথাকে না। টিউব ফেটে যাবার সময় কিছু লক্ষণপ্রকাশ পায়।  লক্ষনগুলো নিম্নরূপঃ

  • তলপেটের এক পার্শ্বে প্রচন্ড ব্যথা।
  • মাসিক বন্ধ।
  • হালকা রক্তস্রাব।
  • বমি বমি ভাব।
  • অজ্ঞান হয়ে যাওয়া (Syncopal Attack)।
  • ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।
  • পেট শক্ত হয়ে যাওয়া।

Ectopic Pregnancy অবস্থায় দু’রকমের জটিলতা হতে পারে।

  • Acute বা প্রেগনেন্সি স্যাক ফেটে গিয়ে পেটের ভিতর রক্তপাত। এতে দ্রুত রোগীর অবস্থা খারাপ হয়। তাই মৃত্যু ঝুঁকিও অনেক বেশী।
  • Chronic বা ধীরে ধীরে অনেকদিন যাবত পেটের মধ্যে রক্তপাত। এতে ক্রমান্বয়ে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়। মনে রাখতে হবে তুলনামূলকভাবে একিউট অবস্থাটা বিপজ্জনক।

গর্ভধারণের লক্ষণবোঝার আগেই অর্থাৎ পিরিয়ড মিস হবার কিছুদিনের মধ্যে এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্ত হলে অনেকে ভুল করে একে এপেন্ডিসাইটিস বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা মনে করে থাকেন। যার কারণেদেখা যায়,প্রথমে মেডিসিন বা সার্জারির ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। যা পরবর্তী পরীক্ষা -নিরীক্ষার মাধ্যমে এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বলে ধরা পড়ে।

করণীয়:

বিবাহিত মহিলা যাদের অনিয়মিত মাসিক হয়, দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা করছেন বা উপরে উল্লেখিত একটোপিক প্রেগনেন্সির কোনো কারণ বিদ্যামান আছে তাদের হঠাৎ তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করা মাত্রই তলপেটের আলট্রাসনোগ্রামের পাশাপাশি প্রেগনেন্সি টেষ্টের জন্য মূত্র পরীক্ষা করা উচিত।

অন্যভাবে বলা যায় যে কোনো বিবাহিত মহিলার প্রেগনেন্সি টেষ্ট পজিটিভ পাওয়ার পর বাচ্চা জরায়ুর ভিতরে নাকি বাইরে আছে তা বুঝার জন্য প্রথম দু’মাসের মধ্যে একটা Pregnancy Profile করতে হবে। কেননা ডায়াগনোসিসে নিশ্চিত প্রমাণ মিললে Ectopic Pregnancy Sac Rupture হওয়ার আগেই অপারেশন না করে শুধু ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেও চিকিৎসা করে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি অনেক কমানো যায়।

প্রথমবার  পিরিয়ড মিস হওয়ার পরে  ইউরিনে প্রেগনেন্সি টেস্ট করে দেখতে হবে। যদি প্রেগনেন্সি এসে থাকে তাহলে আলট্রাসনোগ্রাফি করে ভ্রুণের অবস্থা দেখে নিতে হবে। একটোপিক প্রেগনেন্সি বোঝার সব থেকে ভালো উপায় হল লোয়ার আবডোমেনের আলট্রা সোনগ্রাফি। সাধরণ প্রেগনেন্সিতে এইচসিজি হরমোনের মাত্রা দুদিনে দ্বিগুণ হয়। কিন্তু একটোপিক প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে এই হরমোনের মাত্রা বাড়তে বেশি সময় নেয়। ফলে রক্ত পরীক্ষায় এই হরমোন স্বাভাবিক মাত্রায় না বাড়লে অতি অবশ্যই সোনগ্রাফি করাতে হবে।

রোগ নির্ণয়ের পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করাতে হবে, ঠিক কতদিন পর্যন্ত চিকিৎসা না করালেও চলবে তা বলা যায়না। রোগটির বিভিন্ন ধরণ ও মাত্রা রয়েছে, সে অনুযায়ী যে কোনো মুহুর্তেই মারাত্মক বিপত্তি ঘটে যেতে পারে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close